
হায়দরাবাদের অনেক তরুণ পেশাদারদের জন্য সপ্তাহান্ত মানেই রাত ২টায় ঘুমানো এবং দুপুরে ওঠা। তবে ডাক্তাররা বলছেন, এই অভ্যাস—যেটিকে “সোশ্যাল জেটল্যাগ” বলা হয়—শুধু কর্মদক্ষতাই নয়, শরীরের ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলছে।
“আপনার শরীর জানে না আজ সপ্তাহান্ত,” হিমায়তনগরের স্লিপ ও লাইফস্টাইল ফিজিশিয়ান ডা. বরুণ মাডুগুলা বলেন। “আপনি যখন দুই দিনের জন্য ঘুমের সময়সূচি হঠাৎ বদলান, তখন তা হরমোনাল রিদমকে ব্যাহত করে।”
একটি সাম্প্রতিক তেলেঙ্গানা শহুরে স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০–৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬৮% এর বেশি সপ্তাহের দিনের এবং সপ্তাহান্তের ঘুম থেকে ওঠার সময়ের মধ্যে অন্তত ২ ঘণ্টার পার্থক্য আছে। গবেষকরা এটিকে অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস, খারাপ মনোভাব ও মনোসংযোগের অভাবে যুক্ত করেছেন।
৩২ বছর বয়সী অনিল বলেন, “সপ্তাহের দিনগুলোতে আমি ৬ ঘণ্টা ঘুমাই, আর সপ্তাহান্তে ১০ ঘণ্টা। কিন্তু সোমবার সকালে আমি আরও খারাপ বোধ করি।” এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. ফিরোজ এসকে ব্যাখ্যা করেন, “সোশ্যাল জেটল্যাগ ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া এবং কর্টিসল স্তরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এতে শরীরে চর্বি জমে ও ক্লান্তি আসে।”
ডা. মাডুগুলা যোগ করেন, “ঘুমের রুটিন বিঘ্নিত হলে বেশি দুশ্চিন্তা, রাতের খাবারের প্রতি আসক্তি এবং হরমোনাল ব্রণ দেখা যায়। অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে এগুলোর পেছনে খারাপ ঘুম অভ্যাস রয়েছে।”
চিকিৎসকরা এখন পরামর্শ দিচ্ছেন যে ঘুম ও জাগরণ সপ্তাহের সব দিনে ১ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। হাইটেক সিটিতে একটি ওয়েলনেস স্টার্টআপ ‘স্লিপ রিসেট চ্যালেঞ্জ’ চালু করেছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিনের রিমাইন্ডার, ব্লু লাইট ব্যবহারে বিধিনিষেধ ও খাবারের সময় নিয়ে নির্দেশনা পান।
সোশ্যাল জেটল্যাগ দূর করার সহজ উপায়:
-
প্রতিদিন এক সময় ঘুমানো ও জাগা
-
সকাল বেলায় সূর্যের আলোতে থাকা
-
বিকেল ৩টার পর ক্যাফেইন না খাওয়া
-
৩০ মিনিটের বেশি ঘুম না হওয়া
-
সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত ঘুম ১ ঘণ্টার মধ্যে রাখা