হায়দরাবাদে ২০ ও ৩০-এর দশকে হার্ট অ্যাটাক সাধারণ হয়ে উঠছে

২৮ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মনোজ রাও এবং ৩৩ বছর বয়সী ব্যাংকার কিরণ—দুজনের মিল কোথায়? দুজনেই হঠাৎ কাজের সময় বুকে টান অনুভব করেন, বিষয়টিকে হালকাভাবে নেন, কিন্তু পরে শ্বাসকষ্টজনিত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছান। দুজনেরই হার্ট অ্যাটাক ধরা পড়ে।

এই উদ্বেগজনক প্রবণতা একক নয়। হায়দরাবাদের GHMC পরিচালিত হাসপাতালের তথ্য বলছে, গত দুই বছরে ৪০ বছরের নিচে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হৃদরোগজনিত জরুরি অবস্থার হার ১৯% বেড়েছে। তেলেঙ্গানার শহরাঞ্চলে এখনকার কার্ডিওলজিস্টরা নিয়মিতই তরুণ পেশাজীবীদের প্রারম্ভিক হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসা করছেন।

পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ডঃ রাঘব শর্মা বলেন, “এই পরিবর্তন ২০২০ সালের আশেপাশে শুরু হয়। এখন, শহুরে তেলেঙ্গানায় প্রতি পাঁচজন হৃদরোগীর মধ্যে একজন ৩৫ বছরের নিচে।” কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে — কর্মচাপ, জাঙ্ক ফুড খাওয়া, ঘুমের অভাব, এবং ধূমপান।

কার্ডিওলজিস্ট ডঃ প্রিয়া পুতলা বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ানদের মধ্যে জিনগতভাবেই হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু কাজের চাপ, স্ক্রিন অ্যাডিকশন, রাতের খাবার, আর ব্যায়ামের অভাব তরুণ হৃদয়গুলোকে ঝুঁকিতে ফেলছে।” বিশেষ করে হায়দরাবাদের ৪০-এর নিচে পুরুষরা বেশি বিপদের মুখে।

বাঞ্জারা হিলসের কার্ডিওলজিস্ট ডঃ লক্ষ্মী বিয়াম বলেন, “এটা শুধু কোলেস্টেরল বা মোটা হওয়ার ব্যাপার না। অনেকে চেহারায় রোগী মনে না হলেও, দেহে প্রদাহ, উচ্চ হোমোসিস্টিন ও স্ট্রেস মার্কার থাকে। কারণগুলো শারীরিক এবং মানসিক, দুটোই।”

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাচিবাউলি ও কন্ডাপুরের কিছু আইটি পার্কে এখন বার্ষিক লিপিড চেকআপ এবং ডায়েট কাউন্সেলিং চালু হয়েছে। এছাড়া, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ‘Heartwise Telangana’ নামে একটি ডিজিটাল সচেতনতা অভিযান চালু করেছে, যার লক্ষ্য ২৫–৪০ বছর বয়সী মানুষ।

মনোজের জীবন বদলে গেছে সেই হার্ট অ্যাটাকের পরে। তিনি এখন কার্ডিয়াক রিহ্যাব গ্রুপে যুক্ত, রাতের বিরিয়ানি বাদ দিয়ে স্যালাড খান, আর প্রতিদিন নিঃশ্বাস অনুশীলন করেন। “আমি ভাবতাম আমি খুব ছোট। এখন জানি, এটা জীবন-মরণের বিষয়।”

হৃদয় রক্ষা করুন, দেরি হওয়ার আগেই:

  • নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল ও ECG করান

  • ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন

  • প্রসেসড ফুড ও লবণ কম খান

  • ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

হায়দরাবাদে হার্ট অ্যাটাক এখন আর বার্ধক্যের অপেক্ষা করে না। প্রতিরোধও করা উচিত না।